Skill builder

১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত পলাশীর যুদ্ধ একটি যুগান্তকারী ঐতিহাসিক ঘটনা।

বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে লর্ড ক্লাইভের যুদ্ধ হয়। বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের দিবাকর পলাশীর প্রান্তরে দীর্ঘদিনের জন্য অস্তমিত হয়ে যায় এবং এই পলাশী ব্রিটিশ শক্তির অভ্যুদয়ের সূচনা হয় । বাংলার হতভাগা নবাব সিরাজ এই যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন।

পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পিছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। পলাশীর যুদ্ধের কারণগুলো হলো- সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ইংরেজদের উপঢৌকন প্রেরণ অনীহা, ইংলিশদের দুর্গ নির্মাণ ও নবাবের আদেশ লঙ্ঘন, ক্রীতদাসকে আশ্রয়দান, শওকত জঙ্গকে সমর্থন দান, ইংরেজগন কর্তৃক নবাবের অপমানিত, বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার, সিরাজের বিরুদ্ধে ইংরেজদের মনোভাব, সিরাজের বিরুদ্ধে ক্লাইভের যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ও ক্লাইভের সাথে মীরজাফর অন্যান্যদের ষড়যন্ত্র ইত্যাদি কারণে অসির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। কারণগুলো হলো- তরুণ নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা। রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব তার পতনের অন্যতম কারণ ছিল।

মাতামহের অত্যাধিক স্নেহ প্রাচুর্যের মধ্যে লালিত পালিত হওয়ায় সিরাজের চরিত্র কঠোরতা শাস্তি প্রদান না করা এবং ক্ষমা প্রদর্শন করে মারাত্মক ভুল করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিজয় কে উপেক্ষা করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা এবং সমিতির অপরিপক্কতার পরিচয় বহন করে যাতার অনিবার্য পতনকে ত্বরান্বিত করে।

পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল যা হয়েছিল সেগুলো হলো-

১)এ যুদ্ধের ফলে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজের অকালমৃত্যু সংঘটিত হলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।

২)পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফর ইংরেজদের তাবেদার নতুন নবাবের স্থলাভিষিক্ত হন এবং রাজনীতিতে ইংরেজদের যখন-তখন হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করে।

৩) এই যুদ্ধের ফলে ইংরেজ গান বাংলাদেশ একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার লাভ করেন এবং দেশীয় বণিকদের সমাধি রচিত করেন।

৪) পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। মীরজাফর নবাবী লাভ করে কিন্তু ক্ষমতার মাপকাঠি ক্লাইভের হাতেই থেকে যায়। এদেশবাসী তাদের নাগরিক ও কথা বলার অধিকার হারায়।

৫) মীর জাফরের সাথে চুক্তি মোতাবেক ইংরেজরা প্রচুর অর্থ সম্পদ লাভ করে। মুসলমানরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে থাকার ফলে তাদের রোষানলে পড়ে এরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৬) বঙ্গ দেশের সম্পদ অর্থ বল বল সবে ইংরেজদের হাতে চলে যাওয়ায় ইঙ্গ-ফরাসি সংঘাতে ইংরেজরা জয়লাভ করে।

৭) পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের ফলে প্রথমে বঙ্গদেশ এবং পরে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে বিজয়ের পথ প্রশস্ত হয়। ৮) পলাশীর যুদ্ধের পর ভারতীয় মুসলমানদের আধিপত্য ও প্রাধান্য শূন্যের কোঠায় গিয়ে দাঁড়ায়। ইংরেজরা ক্ষমতা দখল করায় হিন্দুরা তাদের সমর্থন দান এর প্রতিদান স্বরূপ নানা রকম সুযোগ-সুবিধা পেয়ে নিজের ভাগ্যের উন্নতি সাধন করে।

পরিশেষে

১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে ইংলিশ গান দিল্লির সম্রাট শাহ আলমসহ মীর কাসেমকে সম্মিলিত বাহিনীকে বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত করে উপমহাদেশে অপ্রতিহত শক্তির অধিকারী হন। সর্বশেষে বলা যেতে পারে যে পলাশীর যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে ইংরেজ কোন উপমহাদেশে সার্বভৌম শক্তির অধিকারী হন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.