Skill builder

ভূমিকা

মানুষ জন্মের পর তার মায়ের কাছ থেকে যে ভাষা শিখে সাধারণত সেই ভাষা কি আমরা মাতৃভাষা বলে থাকি। বাঙালি জাতির মাতৃভাষা হচ্ছে বাংলা । বাঙালিরা মাতৃভাষা রক্ষার জন্য নিজেদের প্রাণ দান করেছেন। বাঙালির জীবনে মাতৃভাষা দিবস দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস:

পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিম পাকিস্তানীরা সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের উপর আঘাত হানে তাদের ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতির কেরে নেয়ার মাধ্যমে। তারা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয়। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ তাদের এ প্রস্তাব মানতে রাজি হয় না। তারা তাদের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য আন্দোলন শুরু করে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বিভিন্নভাবে আন্দোলনকে বন্ধ করার চেষ্টা করে কিন্তু তারা সফল হয়নি। বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করে ও দাবিয়ে রাখা যায়নি পূর্ব বাংলার ছাত্র সমাজকে। আইন ভঙ্গ করে পূর্ববাংলার ছাত্রসমাজ তাদের আন্দোলন জারি রাখে।

পশ্চিম পাকিস্তানী সরকার ছাত্র সমাজের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলির আঘাতে নিহত হয় সালাম ,বরকত ,রফিক শফিক , ও জব্বার। বাংলার এই বীর সন্তানদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

পরিশেষে বাংলার সকল মানুষ মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে অবশেষে সরকার জনগণের চাপের মুখে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য:

পৃথিবীতে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর একটি নিজস্ব ভাষা রয়েছে। মাতৃভাষা তার মধ্যে অন্যতম। মাতৃভাষা হচ্ছে মানুষের কথা বলার প্রধান ভাষা। মাতৃভাষায় কথা বলে মানুষ যতটা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে অন্য কোন ভাষায় তার সম্ভব নয়। তাইতো কবি বলেছেন ” বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা” মানুষ তার মাতৃভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। মনের ভাব পরিপূর্ণ রূপে প্রকাশ করতে সফল হয়। মাতৃভাষার গুরুত্ব বাংলার জনগণের কাছে কতটা তা তারা তাদের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন। মাতৃভাষা রক্ষার্থে বাংলার অনেক বীর সন্তান তাদের জীবন দান করেছেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে পেয়েছি। বাঙালি জাতির জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব খুবই অপরিসীম।

বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস:

১৯৯৯ সালের ৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে পালন করার প্রয়াস শুরু হয়। এর আগে আমেরিকা প্রবাসী দুই বাঙালি একুশের স্বীকৃতির চিন্তা শুরু করেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ ব্যাপারে যথাযথ ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানায় । পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইউনেস্কোর কাছে আবেদন জানানো হলে আবেদনটি আনুষঙ্গিক ভাবেই গৃহীত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

এরপর থেকে ১২৮ টি রাষ্ট্র যথাযথ মর্যাদায় এই দিনটি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উপসংহার:

আমরা বাঙালি জাতি আমাদের জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে হাজারো মানুষ। আমাদের সকলের উচিত সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো এবং যথাযথ মর্যাদায় মাতৃভাষা দিবস পালন করা। এটাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.