স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ হয়েছিল তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ বলা হয়। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বলেই বাংলার মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং দেশকে স্বাধীন করে। পাকিস্তান বিভাগের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের লোকেরা পূর্ব বাংলার মানুষের উপর অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের লোকের উপর অনেক অত্যাচার চালায়। শোষণ করতে থাকে পুরো বাংলার মানুষকে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা কোন ক্ষেত্রে পূর্ব বাংলার মানুষদের অগ্রাধিকার দেয় নি বরং তাদের সকল অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

পশ্চিম পাকিস্তানিরা সর্বপ্রথম আঘাত হানে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ভাষার উপর। তারা চায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। কিন্তু বাংলার ছাত্র সমাজ রা এই দাবি মেনে নিতে পারেনি তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনে এবং তারা বলে বাংলায় হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। কেননা পাকিস্তানের পূর্ব বাংলার মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। প্রথমে বাংলার মানুষের দাবী ছিল উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রকে বাংলা ভাষা হিসেবে রাখার কিন্তু পাকিস্তানীরা যখন সেটা মেনে নিতে পারেনি তখন বাংলার ছাত্র সমাজ একটাই দাবি জানায় যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা।

এই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজ। ছাত্র সমাজকে রুখে দিতে রাস্তায় নামে পুলিশ আর পুলিশের গুলিতে আহত হয় রফিক, শফিক,সালাম ,জব্বার সহ আরো অনেকে। ভাষার জন্য প্রান দানকারী এই বীর সন্তানদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আন্দোলন আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানীরা ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের নির্বিচারে হত্যা করে। বাংলার মানুষের উপর তারা নির্মম অত্যাচার চালায়। তাদের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঙালির সোচ্চার হয়ে ওঠে। বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডাক্তার মুক্তিযুদ্ধের। তার ডাকে সাড়া দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলার মানুষ। সাধারন জনগন ছাত্রসমাজ ,জেলে, কৃষক ,তাঁতি, কামার ,কুমার সকলে।

গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে। যুদ্ধে প্রাণহারা লাখো মানুষ। সর্বশেষে পাকিস্তান বাহিনী পরাজিত হয় বাংলার মানুষের কাছে এবং তারা আত্মসমর্পণ করে। অতঃপর ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলা স্বাধীন হয়। বাংলার মানুষ মুক্তি পায় নির্যাতনের হাত থেকে। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি দেশের প্রতিষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ।

বাঙালি জাতির জীবনে স্বাধীনতা যুদ্ধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বহন করে । নিজের দেশকে ভালবেসে প্রান দিয়েছে লাখো মানুষ মুক্ত করেছে নিজের প্রিয় দেশকে। আমাদের সকলের উচিত নিজের দেশকে ভালোবাসা নিজের দেশকে সম্মান করা। আমরা সম্মান জানাই সেই সব শহীদদের যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় তারা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.