Skill builder

নিরক্ষরতা নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ ‌। নিরক্ষর ব্যক্তিতথ্য নিরক্ষর জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারে না। এ পার্থিব জীবনকে সুন্দর সুষ্ঠু ও উপভোগ করার জন্য যেমন অক্ষর জ্ঞানের দরকার তেমনি পারোলৌকিক কল্যাণের জন্য শিক্ষা অত্যাবশ্যক। তাই নিরক্ষরতা দূরীকরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কারো মনে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি দরিদ্রতম দেশ। বলাবাহুল্য দরিদ্রের প্রধান কারণ নিরক্ষরতা। একবিংশ শতাব্দী কম্পিউটারের যুগেও বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত।

এ অবস্থার পরিবর্তন যতদিন সম্ভব না হবে ততদিন সামগ্রিকভাবে জাতীয় জীবনের উন্নয়ন হবে না। এ অমোঘ সত্য উপলব্ধি করে সরকার ইতিমধ্যেই নিরক্ষরতা দূরীকরণ অর্থে কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

বর্তমান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কিন্তু তাকে বাস্তবায়ন করা সহজ কাজ নয়।

তবে বলা যায় কিছুটা হলেও এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের নিজেদের কতগুলো কাজ করা আবশ্যক সেগুলো হলো-

১) দেশের সকল এলাকায় প্রত্যেক ওয়ার্ডের নিরক্ষর নারী ও পুরুষের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।

২) বয়স্ক নিরক্ষর নারী ও পুরুষের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আলাদাভাবে নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন ও লেখাপড়ার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

৩) পাঁচ বছর বা ততোধিক বয়সের সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং প্রয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

৪) দরিদ্র অভিভাবকগণ যাতে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহী হন তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫) গ্রাম অঞ্চলের মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান তে হবে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ একটি দরিদ্রতম দেশ। এদেশের অফিস-আদালত এবং অন্যান্য সংস্থার যাতে ব্যাপকহারে দুর্নীতি না হয় সেদিকে সকলের দৃষ্টি রাখতে হবে। নিরক্ষরতা দূরীকরণে উদ্যোগ-আয়োজন কেবল কাগজপত্র থাকলে চলবে না একে দুর্নীতিমুক্ত রেখে বাস্তবে রূপ দিতে।

যাবতীয় উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নিরক্ষরতা কোন জাতির জন্য ভালো কিছু নয়। নিরক্ষর ব্যক্তি সবসময় আঁধারের মধ্যে থাকেন। নিরক্ষরতা কখনো মানুষের জীবনের উন্নয়ন ঘটাতে পারে না। নিরক্ষরতার অন্ধকার থেকে প্রতিটি মানুষকে বের হয়ে আসতে হবে তবেই মানুষ উন্নয়ন সাধিত করতে পারবে এবং অংশ নিতে পারবে দেশ গড়ার কাজে।

বলা হয়ে থাকে “যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত” যেকোনো দেশের উন্নয়ন সাধনের শিক্ষিত জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনসংখ্যা যখন জনসম্পদে পরিণত হয় তখনই সেই জনগণ দেশের সম্পদ হয়ে ওঠে। আমাদের সবাইকে নিরক্ষরতার অন্ধকার থেকে বের হয়ে আলোর পথে আসতে হবে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে নিজের জীবনকে সুন্দর করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে হবে। তবেই নাগরিক হিসেবে আমাদের জীবন সার্থক এবং সুন্দর হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.