Skill builder

গণশান্তি পরিপন্থী অপরাধ বলতে সেসব অপরাধ কে বোঝায় যে অপরাধ জনগনের প্রকােশ্যে সংঘটিত হয় এবং জনগনের শান্তি বিনষ্ট করে।পেনাল কোড ১৮৬০ এর অধ্যায়

বণির্ত এরুপ কয়েকটি গণশান্তি পরিপন্থী অপরাধ হলো বেআইনি সমাবেশ,দাঙ্গা, এবং বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শএুতা বৃদ্ধি করা,রাজনৈতিক কর্যক্রমে অংশগ্রহনের জন্য ছাএদের প্ররোচিত করা এবং মারামারি। ধারা ১৪১ অনুসারে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি জড়ো হয় এবং তাদের সাধারণ উদ্দেশ্য হলো কোনো অপরাধ মূলক বল প্রয়োগ বা বল প্রয়োগের ভান করে সরকার বা সরকারি কর্মচারিকে তার আইনানুগ ক্ষমতা প্রয়োগে ভীত করে তোলা,কোনো আইন বা আইনানুগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বাধা প্রয়োগ করা, অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত করা বা কোনো ব্যক্তির ওপর বল প্রয়োগ বা বল প্রয়োগের ভান করে তার সম্পত্তির অধিকার অর্জন করা,অপরাধ মূলক বলপ্রয়োগ বা বল প্রয়োগের ভান করে সে যা করতে আইনগতভাবে বাধ্য নয় তাকে সেইটা করতে বাধ্য করা বা যা সংঘটিত করার জন্য তার আইনুনাগ অধিকার রয়েছে তা সম্পাদন করা থেকে নিবৃত করা তবে সে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশকেবেআইনি সমাবেশে বলা হয়।কোনো সমাবেশ মিলিত হবার আগে বেআইনি না হলেও উদ্দেশ্য পরিবতর্ন হওয়ার কারনে তা বেআইনি সমাবেশে পরিণত হতে পারে।


ভাদলামুদি সত্য নারায়ণ মামলায় পুলিশের নিষেধ সত্বেও মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সেই মিছিল কে বেআইনি সমাবেশ বলে অভিহিত করা হয়।
নিগা কাউ ইয়ং মামলায় মোড়ল এবং ১৮জন গ্রামবাসী অন্যদের চলার অধিকার ক্ষুন্ন করে শ্রাদ্ধযাত্রা করে এবং হুমকি ধামকি দেয়।এই হুমকির কারণে শ্রাদ্ধ আয়োজন বেআইনি সমাবেশ বলে অভিহিত করা হয়।
ধারা ১৪২ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি একটা সমাবেশ বেআইনি সেটা জানার পর ও তাতে ইচ্ছাকৃত ভাবে যোগদান করে এবং সেই সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কোনো কিছু করে বা করা হতে বিরত থাকে তখন সেই ব্যক্তি কে বেআইনি সমাবেশের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে।উপরের আলেচনা থেকে বোঝা যায় শুধুই উপস্থিতি কখনো একজন ব্যক্তিকে বেআইনি সমাবেশের সদস্য করতে পারেনা।


ধারা ১৫০ অনুযায়ী কেউ বেআইনী সবাবেশের জন্য লোক ভাড়া করলে বা ভাড়ায় সহায়তা করলে তাকেও বেআইনী সমাবেশের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।আবার ধারা ১৪৯ অনুযায়ী সমাবেশের কোন সদস্য কর্তৃক কৃত কোন অপরাধ যা সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংঘটিত হয়েছে সেই অপরাধ সমাবেশের প্রতিটি সদস্য কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।


শিওদয়াল মামলায় দেখা যায় কোনো ব্যক্তি একজন মহিলাকে অপহরন করার জন্য গাড়ী ভাড়া করে।গাড়ী চালক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মহিলাকে অপহরণ করা হচ্ছে বুঝে ও তাকে বহন করমারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হওয়া ব্যতিত বেআইনি সমাবেশের সদস্যরা ধারা ১৪৩ অনুযায়ী কোনো বর্ণনার ৬ মাসের কারাদণ্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে যেখানে মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশের সদস্যরা ধারা ১৪৪ অনুযায়ী যেকোনো বণর্নার ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।আবার কোনো বেআইনি সমাবেশ ভংগ করার নিদের্শ পাওয়ার পরও তাতে যোগদানকারী সদস্য ধারা ১৪৫ অনুসারে ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদন্ডে বা দন্ডিত হবে।


আবার একটি সমাবেশের সদস্য ৫বা তার বেশী কিন্তু ১৪১ এর অধীনে তা বেআইনি না হওয়ার সত্বেও তা যদি কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভংগ করার নিদের্শ দেয়া হয় এবং সদস্যরা তা জানা সত্বেও সমাবেশে যোগদান করে তবে ধারা ১৫১ অনুসারে সমাবেশের সকল সদস্য যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ড যার মেয়াদ ৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দণ্ডিত করা হবে।


কোনো ব্যক্তি যদি জেনে শুনে বেআইনি সমাবেশের সদস্যদের আশ্রয় দান করে তবে সেই ব্যক্তি ১৫৭ ধারা অনুযায়ী ৬ মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ড বা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে।ছে,তাই এখানে গাড়ি চালককে বেআইনি সমাবেশের সদস্য হিসেবে বিবেচিত করা হবে।


আবার কেউ যদি কোন বেআইনীসমাবেশে যোগদান করে বা করার জন্য প্রস্তাব করে যার মূল উদ্দেশ্য হলো ধারা ১৪১ এ বর্ণিত কার্য সম্পাদন করা তবে সে ব্যক্তি ধারা ১৫৮ অনুযায়ী ছয়মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদন্ড বা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। তবে যদি পূর্বোক্ত ব্যক্তি ইতোমধ্যে সমাবেশের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয় এবং সে মৃত্যু ঘটাতে পারে এমন কোনো অস্ত্রে নিজে সজ্জিত হয় বা হওয়ার জন্য প্রস্তাব করে তবে সে ব্যক্তি ২ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড বা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।


কোনো বেআইনি সমাবেশ বা তার কোনো সদস্য কর্তৃক সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য যদি কোনো শক্তি প্রয়োগ করা হয় তবে সেই সমাবেশের প্রত্যেক সদস্যদের ধারা ১৪৬ অনুযায়ী দাঙ্গার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হবে।
অনন্ত পন্ডিত বনাম মধুসূদন মন্ডল মামলায়, ২পক্ষের মধ্যে চৌবাচ্চার শরীক নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত অভিযোগকারীর কয়েকজন সদস্য কে আঘাত করে এবং অভিযোগকারীর পক্ষ মৃদু আহত হয়।সেজন্য অভিযুক্তদের ১৪৬ ধারা অনুযায়ী দাঙ্গার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
কেউ দাঙ্গার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সে ব্যক্তি ১৪৭ ধারা অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ড বা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। আবার যদি কেউ মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঙ্গার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয় তবে সে ব্যক্তি ধারা ১৪৮ অনুসারে ৩ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ড বা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।


যে ব্যক্তি বিদ্বেষমূলকভাবে দাঙ্গা সংঘটনের জন্য বেপরোয়াভাবে উত্তেজনা দান করে তবে সে ব্যক্তি যদি দাঙ্গা সংঘটিত হয় তবে ধারা ১৫৩ অনুসারে যেকোন বর্ণানার কারাদন্ডে যার মেয়াদ ১ বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদন্ডে বা উভদন্ডে দন্ডিত হবে ।আর যদি দাঙ্গা সংঘটিত না হয় তবে যেকোন বর্ণনার কারাদন্ডে যার মেয়াদ ৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদন্ডে বা উভদন্ডে দন্ডিত হবে।
আবার কেউ যদি কথা বা লেখনি বা সংকেতের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টির জন্য বেপরোয়াভাবে উত্তেজনা দান করে তবে সেই ব্যক্তি ২ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যেকোন বর্ণনার কারাদন্ডে বা অর্থদন্ডে বা উভদন্ডে দন্ডিত হবে যা ১৫৩ক তে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা আছে।আবার এই উত্তেজনা যদি ছাত্রদের মধ্যে প্রদান করে বা করার চেষ্টা করে তবে ধারা ১৫৩খ অনুসারে ২ বছর পর্যন্ত মেয়াদের যেকোন বর্ণনার কারাদন্ডে বা অর্থদন্ডে বা উভদন্ডে দন্ডিত হবে।


যার ভূমিতে দাঙ্গা সংঘটিত হয় সে যদি এই দাঙ্গা সর্ম্পকে যথেষ্ট অবগত থাকার পর ও নিবারণ করার চেষ্টা না করে বা সরকারি কর্তৃপক্ষকে দাঙ্গা সর্ম্পকে আবগত না করে তবে সেই ভূমির মালিক ধারা ১৫৪ অনুসারে এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হতে পারে।অবার ১৫৫ ও ১৫৬ ধারা অনুসারে যার স্বার্থে দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং তার অনুপস্থিতিতে তার প্রতিভূ যদি দাঙ্গা নিবারণের যৌক্তিক চেষ্টা না করে তবে তাদের উভয়কে অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হবে।


যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে ঝগড়া করে গণশান্তি বিনষ্ট করে তখন ধারা ১৫৯ অনুসারে তারা মারামারি সংঘটিত করেছে বলে ধরে নেয়া হবে।তবে শুধু প্রকাশ্য স্থানে কথা কাটাকাটি কখনোই মারামারি বলে বিবেচিত হবে না ।জগন্নাথ সাহ মামলায় দেখা যায় জনসমাগম পূর্ণ স্থানে দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়,এতে করে রাস্তায় যান চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হয়,কিন্তু কোন মারামারি সংঘটিত হয় নি তাই দুই ভাইয়ের কাউকে ১৫৯ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়নি।


কিন্তু লঙ্গর মামলায় দুই ব্যক্তির মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আঘাত করা শুরু হয় এবং এতে এক ব্যক্তি মারা যায় কিন্তু মূল হত্যাকারী কে তা চিহ্ণিত করা সম্ভব না হলেও ১৫৯ ধারায় মারামারি সংঘতিত হয়েছে বলে কোর্ট মতামত প্রদান করে।
আর ১৫৯ এর অধীনে যাদেরকে মারামারির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হবে তাদের শাস্তি ১৬০ ধারা অনুসারে সর্ব্বোচ্চ ১ মাসের কারাদন্ড অথবা একশত টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.