Skill builder

প্রাগৈতিহাসিক যুগের আর্থসামাজিক অবস্থা সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের পাথরের তৈরি হাতিয়ার ছিল বেশ মসৃণ সুতীক্ষ্ণ। এযুগের বাংলার জনগোষ্ঠীর কিছু কিছু কৃষি কাজ করতে পারতো বলে জানা যায়।

পশু পালন করতে এবং ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে পারত। তারা আগুনের ব্যবহার জানতো। তারা এক স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করত না। মোটামুটি তাদের যাযাবর জীবন এর আভাস পাওয়া যায় । তারা পানিতে চলাফেরা করার জন্য নৌকা তৈরি করত।

অসম সুতা দিয়ে কাপড় বানাতে পারত। তারা মৃতের কবর দিত। এরা মাটির পাত্র তৈরি ও ব্যবহার করত এবং তারা কুমারের মতো ঘূর্ণায়মান চাকার ব্যবহার করে মাটির পাত্র তৈরি করতে পারত না। তারা ছবি আঁকতে পারতো এবং গুহার দেয়ালে তাদের অঙ্কিত নিত্তের ও নানা জীবজন্তুর ছবি পাওয়া যায়। বর্ধমান জেলার অজয় নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত পান্ডু রাজার ঢিবি প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে এক সভ্যতার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

এ সময় লোকেরা ধান চাষ করতে পারত। তারা সম্বর ও নীলগাই প্রভৃতি পশু শিকার করত যা তারা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতো। তারা গৃহে পশু পালন করত বিশেষ করে শুকর পালন ও নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। তারা চিত্র শোভিত মাটির পাত্র ব্যবহার করত।

তারা প্রস্তর ও তামার ব্যবহার জানতো। শেষের দিকে তারা তামার পরে লোহার ব্যবহার শিখেছিল। তারা কাঁচা বাড়ি ও পাকা বাড়ি ব্যবহার করত। পাকা বাড়ি বলতে ঈদ বা পাথরের তৈরি বাড়ি এবং কাঁচা বাড়ি বলতে নলখাগড়ার সঙ্গে মাটি মিশ্রিত করে ঘরের দেয়াল তৈরি করে যে বাড়ি বানাতে তাকে বোঝানো হয়েছে। তারা পোড়ামাটির ব্যবহার জানতো। মাটি দিয়ে নানা রকম মুক্তি তারা তৈরি করত এবং তা ফুরিয়ে শক্ত করার কৌশল ও তারা জানত।

নব্য প্রস্তর যুগের শেষের দিকে হয় তাম্র যুগ। এযুগে তারা তামার ব্যবহার জানতো। প্রথমে ধাতু হিসেবে তারা তামাই ব্যবহার করত। তামা দিয়ে ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করত। এ যুগে তারা পোড়া মাটির বাসন তৈরি করত। কিছু কিছু রান্নার কৌশল তারা জানত।

প্রাগৈতিহাসিক যুগে আর্থসামাজিক অবস্থা এরূপ ছিল। সেসময়ের মানুষ অনেক ধরনের কাজ জানতো কিন্তু তারা যাযাবর জীবন যাপন করত। সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে যুগের উন্নতি সাধিত হয় যার ফলে মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হয়।

বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের প্রাগৈতিহাসিক যুগে আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। প্রাগৈতিহাসিক যুগের আর্থসামাজিক অবস্থা কেমন ছিল নাগরিক হিসেবে সেটা জানা আমাদের দায়িত্ব কেননা একজন সুনাগরিক তার দেশের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত থাকেন

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.