২১ দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতি বীরের জাতি। সময়ের প্রয়োজনে বাঙালি জাতি একেক সময় একেক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। তারা কখনো ভয় পেয়ে পিছিয়ে থাকেনি । ঠিক তেমন বাঙালির এক দাবী ছিল ছয় দফা কর্মসূচি । কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নীতির প্রতিকূল কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে নাগরিকগণের জীবনধারণের ব্যবস্থা করা হবে; এটাই ছিল ছয় দফা কর্মসূচির নীতির আলোকে ছয় দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়।

ছয় দফা কর্মসূচি গুলো হল

– ১) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।

২) বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদার ও সমস্ত খাজনা আদায়কারী সত্য উচ্ছেদ ও রহিত করে ভূমিহীন কৃষকের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা হবে। এবং উচ্চহারের খাজনা ন্যায়সঙ্গতভাবে রাস করা হবে এবং সার্টিফিকেট যোগ না দেয়ার প্রথা রহিত করা হবে।

৩) পার্ট ব্যবসা কে জাতীয়করণ করার উদ্দেশ্যে তা পূর্ববঙ্গ সরকারের প্রত্যক্ষ পরিচালনাধীন আনয়ন করে প্রার্থীদের মধ্যে পাটের ন্যায্যমূল্য দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভার আমলের কেলেঙ্কারির তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সকলের শাস্তির ব্যবস্থা ও তাদের অসৎ উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। ৪) কৃষির উন্নতির জন্য সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।

৫) পূর্ববঙ্গ কে লবণ শিল্পী স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য সমুদ্র উপকূলে কুটিরশিল্পের ও বৃহৎ শিল্পের লবন তৈরীর কারখানা স্থাপন করা হবে।

৬) শিল্প ও কারিগরি শ্রেণীর গরিবদের আশু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ৭) খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করে দেশকে পণ্য ও দুর্ভিক্ষের কবল থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে। ৮) পূর্ববঙ্গ কে বৈজ্ঞানিক উপায়ে শিল্পায়িত করে ও কৃষক আধুনিক যুগ উপযোগী করে শিল্পখাতে দেশকে স্বাবলম্বী করা হবে। ৯) দেশের সর্বত্র একযোগে প্রাথমিক অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রত্যাবর্তন করা হবে এবং শিক্ষকদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

১০ ) শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে শিক্ষাকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কার্যকরী করে কেবলমাত্র মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা দানের ব্যবস্থা করা হবে।

১১) অল্প ব্যবসা সাপেক্ষ ও সুবিধাজনক ছাত্রাবাসের বন্দোবস্ত করা হবে।

১২) যুক্তফ্রন্টের কোন মন্ত্রী ১টাকার বেশি বেতন গ্রহণ করবেন না।

১৩) দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ঘুষ বন্ধ করার কার্যকরী ব্যবস্থা করতে হবে এবং ব্যবসায়ী ও বেসরকারি পদাধিকারীর সমস্ত এর হিসাব নিকাশ নেয়া হবে এবং সন্তোষজনক কৈফিয়ৎ দিতে না পারলে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

১৪) জননিরাপত্তা আইনে অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি কালাকানুন অবহিত করে বিনা বিচারে আটক বন্দীদের মুক্তি দেয়া হবে এবং সংসদ পত্র সভা ও সমিতি করার অধিকার অবাধ করা হবে।

১৫) বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা হবে। ১৬) বর্ধমান হাউসকে আপাতত ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষণাগারে পরিণত করা হবে। ১৭) রাষ্ট্রভাষার দাবিতে সংগ্রাম করার কারণে মন্ত্রিসভায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন স্বরূপ ঘটনাস্থলে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে এবং পরিবারবর্গ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। ১৮) একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে একটি সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করাহবে।

১৯) পূর্ব পাকিস্তানের অস্ত্র নির্মাণের কারখানা করে পূর্ব পাকিস্তানকে আত্মরক্ষায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে এবং আনসার বাহিনী কে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করা হবে।

২০) আইন পরিষদের আয়ের শেষ হওয়ার 6 মাস পূর্বেই মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করে নির্বাচন কমিশন মারফত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।

২১) যুক্তফ্রন্টের আমলের যখন যে আসন শূন্য হবে তিন মাসের মধ্যে তা পূরণের জন্য উপ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে এবং পরপর তিনটি উপ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হলে মন্ত্রিসভা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবে। ২২) দফা ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের মুক্তির সনদ। প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ভিত্তি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.