দৃষ্টিভঙ্গি বদলান বদলে যাবে আপনার জীবন দৃষ্টিভঙ্গি বদলান বদলে যাবে আপনার জীবনঃ-এই কথাটি দ্বারা অনেক কিছু বোঝানো হয়ে থাকে। কারণ আমরা নিজেরা নিজেদের স্থান থেকে একটি জিনিস কে এক এক চোখে দেখি। কেউ ভালো চোখে দেখি, কেউ খারাপ চোখে দেখি, কেউ বা আবার মজার ছলেই সে জিনিসটাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতে থাকি, কেউ বা আবার খুব রাগান্বিত হই, এক মানুষ এক একরকম। তাই এটি একটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও একেক রকম। কিন্তু সব মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হলে ও কোন কাজটি ভালো কোন কাজটি খারাপ কোন কাজটিতে আমাদের হাসতে হবে এবং কোন কাজটিতে আমাদের রাগান্বিত হতে হবে এটি অবশ্যই বিচার করার ক্ষমতা আপনার ভিতরে থাকতে হবে। কারণ এই ক্ষমতা যদি আপনার মধ্যে না থাকে তাহলে, আপনি কখনো নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে দাবি করতে পারবেন না। এই যে দেখুন আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে-যারা শারীরিক ভাবে অক্ষমতা। মানে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। যাদেরকে আমরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ বলে থাকি। আমরা কি ওদেরকে ভাল চোখে দেখি? এখন হয়তো অনেকেই করুনার ছলে বলবে যে হ্যাঁ আমরা এদেরকে ভালো চোখে দেখি…!কিন্তু নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন? আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ান এবং বলুন আসলে কি আপনাদেরকে ভাল চোখে দেখেন? কখনোই না বরং এরা আপনার সামনে আসে তখন আপনি বিরক্ত হন অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু একবারও কি আপনার মনে প্রশ্ন জাগে ওরাও তো মানুষ? ওদেরও তো মন বলতে কিছু আছে? আসলে কি জানেন অভিশাপ দেওয়া লাগেনা যখন ওদের মনে আপনি একটি কষ্ট দিবেন তখন এমনি মহান আল্লাহ তালা আপনার উপর অভিশাপ দেবে। আর সেই অভিশাপে আপনি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবেন। তাই আমাদের উচিত যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে এসব বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষকে ভালো চোখে দেখা। কারণ মহান আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে এভাবে বানিয়েছেন। অথবা কেউ জন্মের পর কোন এক দুর্ঘটনায় এরকম হয়েছে। কেউ তো নিজের ইচ্ছায় এমন হয় না। তাই তাদের উপর আমাদের অবশ্যই করুনার দৃষ্টি দেখাতে হবে। ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখাতে হবে। যতটা সম্ভব তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে। আপনি দেখবেন আপনার কোন সহপাঠীর হাত নেই। তারাও কিন্তু আপনার মত জীবন যাপন করতে চায়, আপনি দুই হাত দিয়ে যে কাজটি অনায়াসে করতে পারবেন আপনার একটি বন্ধু কিন্তু সেই কাজটি করতে পারবে না। অবশ্যই তার জন্য সেই কাজটি করা অনেক কষ্টকর হবে। কিন্তু তবুও যদি সে ঐ কাজটি করে দেখায় তাহলে অবশ্যই বুঝবেন মহান আল্লাহতালা আপনার থেকে ক্ষমতা অবশ্যই বেশি দিয়েছে। তাই আপনার কোন অধিকার নেই তার উপর হাসার। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। তাই যে যে অবস্থানে আছেন সেই অবস্থান থেকে সরে আসুন। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলান। দেখবেন বদলে যাবে সমাজ, সবকিছুই লাগবে সুন্দর।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.