আগরতলা মামলা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান আওয়ামী লীগের ৬ দফা আন্দোলনের প্রচণ্ডতায় ভীত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক মামলা দায়ের করেন।

সরকারি ষড়যন্ত্র মামলা কে “আগরতলা ষড়যন্ত্র ” মামলা বলে অভিহিত করে শেখ মুজিবকে জড়ানোর চেষ্টা করে।

পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের আইয়ুব একনায়কতন্ত্র মূলক শাসনের বিরুদ্ধে তখন গণতন্ত্রকামী রাজনীতিবিদরা জাতীয়তা ভিত্তিক দল গঠনের প্রস্তাব করেন। জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য তখন আইয়ুব খান রাজনৈতিক দল গঠন আইন প্রণয়ন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের নেতারা রাজনৈতিক দল গঠন থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনো থেমে থাকে নি তারা সর্বদা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারা বাংলার সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক মামলা দায়ের করেন।

এসব কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে যে মামলা দায়ের করা হয় তাই আগরতলা মামলা নামে পরিচিত। স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার ১৬ ই জুন ইত্তেফাক পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন কে বন্দী করেন ।

১৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা এবং পরিচালনায় অভিযোগ আনয়ন করা হয়। আইয়ুব সরকারের উদ্দেশ্য ছিল শেখ মুজিব এবং তার আওয়ামী লীগের ধ্বংস করা। সেজন্য সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে শেখ মুজিবসহ ৩৫ জনকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন।

অতঃপর ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন কুর্মিটোলা সেনানিবাসে শেখ মুজিবসহ অন্যান্য বন্দীদের আগরতলা মামলার প্রহসনমূলক বিচার শুরু হয়। মাওলানা ভাসানী এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

বাংলার জনগণ সরকারের দূরভিসন্ধিমূলক কার্যকলাপ বুঝতে পেরে প্রচন্ড আন্দোলনে ফেটে পড়ে। ঈদকে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার এর হিংস্র ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য বাংলার জনগণ জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতন এবং ১৪৪ ধারা কে উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। তাদের মিছিলের পর মিছিল এবং গগনভেদী শ্লোগানে বাংলা প্রকম্পিত হতে থাকে।

সরকারের অত্যাচার এবং নির্যাতন সত্ত্বেও এই আন্দোলন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের রূপ পরিগ্রহ করে । আসামিদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট জহুরুল হককে রাতে বন্দি অবস্থায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরিশেষে শেখ শেখ মুজিব ও তার সহকর্মীরা বিনাশর্তে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

বাঙালি জাতি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে তারা সশস্ত্র আন্দোলন করেছেন। পশ্চিম পাকিস্তানিরা সর্বদাই পূর্ব বাংলার মানুষের উপর অত্যাচার জুলুম চালিয়েছেন। জুলুম অত্যাচার সহ্য করতে করতে বাঙালি জাতি এক সময় সোচ্চার হয়ে ওঠে। তারা খুব সহজেই যে কোন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তো।

অংশ নিতো যে কোন আন্দোলনে। পাকিস্তানি বাহিনীর সর্বদাই পূর্ব বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করত । কিন্তু শত ষড়যন্ত্র করেও তারা সফল হয়নি

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.