Skill builder

দেশবিভাগের বহু পূর্ব হতেই বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম লীগের ভিতরে সোহরাওয়ার্দী হাশিম এবং খাজা গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজমান ছিল। একে অনেকে উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও সামন্ত শাসক শ্রেণীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বলে আখ্যায়িত করেন। সোহরাওয়ার্দী ও হাশিম পূর্ব বাংলায় আসার পরে প্রথমে রাজনৈতিকভাবে তাদের অবস্থান তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। –আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা

মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্লাটফর্ম তৈরি প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তারিখে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে অসাম্প্রদায়িকতার নীতির কারণে ১৯৫৫ সালের অক্টোবরে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নাম রাখা হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি এবং মুসলিম লীগ নেতাদের ও গণতান্ত্রিক মনোভাব ও সরকারের নীতির প্রতিবাদে মূলত আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়। মাওলানা ভাসানী এবং সোহরাওয়ার্দী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনা ও জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে‌ ” আওয়ামী মুসলিম লীগ” প্রতিষ্ঠা করেন। বিশিষ্ট যুব নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। পূর্ববাংলা মুসলিম লীগের জনস্বার্থ ইন কার্যকলাপ এবং পশ্চিম পাকিস্তানী ও সামন্তপ্রভুদের তুষ্ট করার মনোভাবে পূর্ব বাংলার জনগণ বিশেষ করে শিক্ষিত সচেতন মধ্যবিত্ত শ্রেণী ক্রমশ প্রগতিশীল আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

কিছুদিনের মধ্যে মাওলানা ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুরের যোগ্য নেতৃত্বে এবং ছাত্র সমাজের সক্রিয় সমর্থনে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয় দল হিসেবে পরিগণিত হয়। প্রশাসন ও সামরিক বিভাগে বাঙালি নিয়োগের ব্যাপারে অসমতা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য ও সরকারের দুর্নীতি এবং সর্বোপরি মুসলিম লীগের প্রতিক্রিয়াশীল নীতির বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ বিক্ষুব্ধ হতে থাকে। ফলে পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগের যেমন জনপ্রিয়তা হ্রাস পায় তেমনি আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এদিকে যতই সময় অতিবাহিত হতে থাকে মুসলিম লীগ সরকার ততই আমলা ও সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর হতে থাকে। সেনাবাহিনীর সমর্থন আমরা গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৩ সালে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন কে পদচ্যুত করেন। তার স্থলে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বগুড়ার মোহাম্মদ আলীকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। কিন্তু মোহাম্মদ আলীর মুসলিম লীগের উপর তেমন শক্তিশালী প্রভাব ছিল না এবং বাঙালি হওয়ায় দলের মধ্যে মর্যাদার অভাব ছিল। এসব কারণে তার ক্ষমতা ছিল পুতুল প্রধানমন্ত্রীর মতো সীমিত। এছাড়া পাঞ্জাবি মিলিটারি গোষ্ঠী এবং আমলারাই ছিল এ দেশের ভাগ্যনিয়ন্তা । এদের চক্রান্তে পাকিস্তান মার্কিন সামরিক চুক্তি হয়। একারণেই বাঙালিরা আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং পরিত্রাণের পথ খুঁজতে থাকে। এভাবেই ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তা পেতে থাকে ।

বাংলাদেশের উপন্যাস ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন জোয়ার আসে ।কাব্য ,নাটক, উপন্যাস নতুন পথ সন্ধানী হয় ।অবিভক্ত বাংলায় মুসলমান রচিত উপন্যাসের উৎকর্ষতার না থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশের উপন্যাস শক্তিশালী শিল্প আঙ্গিকের হয়েছে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশের উপন্যাস বৈচিত্র ও বিন্যাস এর সফল উত্তরণের পথে তার মাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

বাংলা উপন্যাসের পরিমণ্ডলে মুসলিম জীবন নিয়ে খুব কম উপন্যাস রচিত হয়েছে। একটি স্বতন্ত্র পটভূমিতে উপন্যাসের বুনিয়াদ নব-দিগন্ত ভিশারি হয়ে উঠেছে। মুসলিম জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস, ভন্ডামি, সমাজ জীবনের ক্লান্তি নৈরাশ্য মুসলিম লেখকগণ কর্তৃক রচিত উপন্যাসের শিল্প সম্মত ভাবে চিত্রিত হয়েছে। গ্রাম ও শহর উভয়ই এখনকার উপন্যাসে স্থান পেয়েছে। গ্রাম বাংলার অবহেলিত জীবন, ভূসংস্থান যেমন উপন্যাসের স্থান পেয়েছে, তেমনি পেয়েছে শহরকেন্দ্রিক জীবনের ক্লেদ ও উৎকট সমস্যা। জীবনের একটি সামগ্রিক ছবি নগর জীবন ও গ্রামের জীবনের বাংলাদেশের উপন্যাস সহজেই চোখে পরে। সমাজ সচেতনতার বাংলাদেশের উপন্যাসের লক্ষ করার একটি বিষয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যে অবস্থা ও পরিপ্রেক্ষিতে রচিত হয়েছে তার কথা নিয়ে উপন্যাস সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের পুরস্কারে ভূষিত করেন। উপন্যাস রচনা করি অনেকেই এ পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের সাহিত্যকীর্তি শৈল্পিক ও জীবন রহস্য উত্তীর্ণ। আবুল হাশেম খান, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, আবুল ফজল, আবু ইসহাক, শামসুদ্দীন আবুল কামাল, মাহবুবুল আলম, কাজী আফসার উদ্দিন আহমেদ, সরদার জয়েন উদ্দিন, আবু জাফর শামসুদ্দীন, শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হান, রশীদ করিম, রাজিয়া খান, রাবেয়া বেগম, শামস রশীদ, দিলারা হাশেম, মাহমুদুল হক, রাজিয়া মজিদ ও রিজিয়া রহমান উপন্যাস রচনায় কৃতিত্বের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন।

অনেকেই রয়েছেন যারা উপন্যাস রচনা করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন নগরজীবনের নিয়ে ‌। কেউ লিখেছেন ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রামী গল্প নিয়ে। কেউ প্রতিফলিত করেছে গ্রামীণ পটভূমিতে সামাজিক জীবনের করুণ রস ঘন চিত্র। বিভিন্ন ঔপন্যাসিকের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক তার সাথে সাথে গল্পকার ,নাট্যকার এবং গীতিকার। চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। মিসির আলি, কেউ কেউ নেই, জোসনা ও জননীর গল্প দেয়াল, প্রবৃত্তি তার শ্রেষ্ঠ কর্ম। শুধু যে প্রাচীনকালে উপন্যাস রচনার হত এমনটা নয়। তমান সময় বিভিন্ন ধরনের উপন্যাস রচনা করা হয়। খানে সমাজের বিভিন্ন প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়।

এছাড়াও আরও অনেক নবীন-প্রবীণ লেখক উপন্যাস রচনায় মগ্ন আছেন। বাংলাদেশের উপন্যাস সাহিত্য সমৃদ্ধ জীবনে পা রেখেছে। নতুন আঙ্গিক জীবন জিজ্ঞাসা , সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিসত্তার বহির্মুখী অন্তর্মুখী বিশ্লেষণ বাংলাদেশের উপন্যাসে বেশ স্পষ্ট ভাবে বিধৃত। বাংলার মানুষের সামনে সম্ভাবনাময় নতুন দিন আরো সফলতা উজ্জ্বল হবে তাতে আর কোনো সন্দেহ নেই

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.